আকন মোঃ ইমরান আলী, বিশেষ প্রতিনিধি
ভালোবাসার কোনো সীমারেখা নেই। ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের ভিন্নতা পেরিয়ে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বরিশালের গৌরনদীর যুবক মো. সুমন ইসলাম (সোহেল) ও মালয়েশিয়ার তরুণী নূর হেদায়া নুর হিসাম। তাদের এই ব্যতিক্রমী প্রেম ও বিয়ের গল্প এখন স্থানীয় মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের উত্তর নাঠই এলাকার খলিফা বাড়ির সন্তান মো. সুমন ইসলাম (সোহেল)-এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ভানতিম শহরের বাসিন্দা নূর হেদায়া নুর হিসামের। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং তা ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
সুমন জানান, দীর্ঘদিনের পরিচয় পর দুই বছর আগে মালয়েশিয়ায় ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রেমের শুরু থেকেই নূর হেদায়া নুর হিসাম তার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনিই প্রথম ভালোবাসা ও বিয়ের প্রস্তাব দেন।
বর্তমানে সুমন ইসলাম মালয়েশিয়ায় একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন। গতকাল বুধবার (৩ জুন) দুপুরে তাদের সম্মানে নিজ বাড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ান পুত্রবধূকে একনজর দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন। বিদেশি পুত্রবধূকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সুমন ইসলাম বলেন, “নূর এখন কিছুটা বাংলা বলতে পারে। আমি তাকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতসহ অনেক বাংলা শব্দ ও বাক্য শিখিয়েছি। বিয়ের আগে সে মালয়েশিয়ার একটি ইসলামিক কলেজে অধ্যয়নরত ছিল। বর্তমানে সে সংসার ও পারিবারিক জীবন নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে।”
বাংলাদেশে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নূর হেদায়া নুর হিসাম বলেন, “বাংলাদেশের আবহাওয়া, সংস্কৃতি, রীতিনীতি এবং আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষের আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়ার পর আবারও বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা রয়েছে।”
সুমন ইসলামের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের পছন্দের মেয়েকে আমরা পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। বিদেশি পুত্রবধূ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। সে আমাদের পরিবারের সবার সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মিশে গেছে।”
স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক আজ সফল দাম্পত্য জীবনে রূপ নিয়েছে। দুই দেশের সংস্কৃতি ও দূরত্বকে জয় করে গড়ে ওঠা এই ভালোবাসার গল্প তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।