কীর্তনখোলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত প্রার্থীদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি বয়স ও সম্পদের দিক থেকেও দলটির প্রার্থীদের মধ্যে প্রবীণ ও কোটিপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৮ সাল থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এবারের নির্বাচনে হলফনামায় বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মামলা সংক্রান্ত তথ্য, আয় ও সম্পদসহ মোট ১০ ধরনের তথ্য দিতে হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৮৭টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থীর নাম নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে ছয়জন প্রার্থী জোটসঙ্গী দল ছেড়ে বিএনপির প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জোটের শরিক দলগুলোর জন্য আটটি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এছাড়া দুটি আসনে তফসিল পুনর্নির্ধারণ, দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপি কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীই সংখ্যাগরিষ্ঠ: ধানের শীষ প্রতীকের ২৮৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২৯ জন স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা সমমানের উচ্চশিক্ষিত। এর মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছেন আটজন। এসএসসি পাস প্রার্থী ১৮ জন, এইচএসসি পাস ২১ জন এবং মাধ্যমিকের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে তিনজনের। ১১ জন নিজেদের স্বশিক্ষিত বা সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাঁচজনের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য স্পষ্ট নয়। পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া মানিকগঞ্জ-১ ও রংপুর-১ আসনের দুই প্রার্থী হলফনামায় নিজেদের ‘সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বয়সে প্রবীণদের আধিক্য: বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থীদের বড় অংশই মধ্য ও প্রবীণ বয়সী। ২৮৭ জনের মধ্যে ২৪৮ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী কোনো প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ছয়জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৩২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৯৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৯৫ জন এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থী রয়েছেন ৫৪ জন। একজনের বয়স সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে প্রবীণ প্রার্থী হলেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের আকবর আলী। তাঁর বয়স ৮৬ বছর। তিনি এর আগে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী ঝিনাইদহ-৪ আসনের রাশেদ খাঁন। বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী শেরপুর-১ আসনের চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।

ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি: ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে ২০৫ জন নিজেদের প্রধান পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৭১ শতাংশ। এছাড়া আইনজীবী ২৭ জন, কৃষক ১৭ জন, চিকিৎসক ১২ জন, শিক্ষক ছয়জন এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সাতজন হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেকে পেশায় রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দুটি আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। আরও কয়েকজন প্রার্থীও হলফনামায় শুধু রাজনীতিকেই পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন।

আয় ও সম্পদে কোটিপতির আধিক্য: হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির ৩৭ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার বেশি। ৫১ থেকে ৯৯ লাখ টাকা আয় করেন ৩৯ জন এবং ৩১ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন ৩৪ জন। বছরে ২০ লাখ টাকার কম আয় দেখানো প্রার্থীর সংখ্যা ১৪১ জন। সবচেয়ে বেশি আয় দেখিয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৫৯ কোটি টাকা, যার বড় অংশ মূলধনী মুনাফা থেকে এসেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আয় দেখিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো. শাজাহান। সম্পদের হিসাবে দেখা যায়, বিএনপির ২১৫ জন প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি। সাতজনের সম্পদ ১০০ কোটি টাকার বেশি। সর্বাধিক সম্পদের মালিক চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সম্পদ দেখিয়েছেন রাজশাহী-৬ আসনের প্রার্থী মো. আবু সাইদ চাঁদ। হলফনামায় উল্লিখিত তথ্য বিশ্লেষণের সময় সম্পদের অর্জনকালীন মূল্যকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। কোথাও তথ্য অস্পষ্ট থাকায় আয়কর নথি অনুসরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement