কীর্তনখোলা রিপোর্ট
বরিশাল সদর আসনে লড়াই করার মত প্রার্থী সংকট দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের পর এবার জামায়াত, এনসিপি না থাকায় লড়াই করার মত প্রার্থীর সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও হাতপাখা প্রতীকের সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের সমর্থনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে জানান। এছাড়াও সবাইকে তিনি মুফতি ফয়জুল করিমকে সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বিএনপির নেতারা বলছেন, এতে ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। ফলে আসন্ন নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের একমাত্র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই জামায়াতের আমিরের আসনে প্রার্থী দিইনি। অ্যাডভোকেট হেলাল আমাদের আমিরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন—এটাই রাজনীতির সৌন্দর্য।’ ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেই সুযোগ আর নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে, তা বড় বিষয় নয়। জনগণের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে মানুষ পরিবর্তন চায়, বরিশালের মানুষও তার ব্যতিক্রম নয়।’ এ বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও নগর বিএনপির সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই। আমাদের প্রার্থী যে কাউকে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। জামায়াতের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বিএনপি মোটেও চিন্তিত নয়। কারণ, এই আসনের মানুষ বারবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, ‘জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এতে হাতপাখার বিজয় আরও সহজ হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভোট জনগণের। তারা নতুন চাঁদাবাজদের চায় না, পরিবর্তন চায়।’ নগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাহার জামায়াতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। জনগণ তা বিবেচনায় নেবে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, এই আসনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে। ফয়জুল করিম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও আমরা উদ্বিগ্ন নই।’ উল্লেখ্য, বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম একাধিকবার এই আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। তবে বাংলাদেশের কোন নির্বাচনেই তারা জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেনি। এবার তাদের সে সূযোগ রয়েছে বলে জানান ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম।