বিশেষ প্রতিনিধি, জামিল হাসান:

 সোমবার (২২ জুন) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সমর্থনে অর্থ লেনদেন ও কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে বরাদ্দের অর্থের হিসাব করছেন বাবুল চন্দ্র রায়। তিনি ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের পরিমাণ নির্ধারণ করছেন।

ভিডিওর এক পর্যায়ে দেখা যায়, ৮ টন গমের একটি প্রকল্পের হিসাব করতে গিয়ে তিনি বলেন, “৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।” এ সময় এক ইউপি সদস্য কমিশনের পরিমাণ কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, “মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।”

ভিডিওর অন্য একটি অংশে একটি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলে তিনি হিসাব করে ২৪ হাজার টাকা কমিশনের কথা বলেন। শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, “আগে আপনাদের পরিষদে আসতে দেয়নি, এরপর থেকে আপনারাও আসতে দেবেন না, শোধবোধ।”

এ ছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে অপর একজনের কাছে ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার কথাও ভিডিওতে শোনা যায়। ভিডিওর শেষদিকে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এ ধরনের কথা হয়েছে।”

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে

বিজ্ঞাপন
Advertisement