কীর্তনখোলা রিপোর্ট

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ৩৮ হাজার ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গের স্থানে ভুলবশত ‘ফিমেল বা মেয়ে’ লেখা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে এ অস্বাভাবিক ভুল সামনে আসায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রস্তুতি সরিয়ে রেখে সংশোধনের জন্য কলেজ ও বোর্ডে ছুটাছুটি করছেন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী মঙ্গলবার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কম্পিউটার প্রোগ্রামের সেটিংস ত্রুটি ও অপারেটরের অসতর্কতার কারণে এ ভুল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধন করে পুনর্মুদ্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষার আগেই ত্রুটিটি ধরা পড়ায় সমাধান করা সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিনা ফিতে কার্ড সংশোধন করাতে পারছেন এবং এতে হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরে মোট ৮১ হাজার ৮৩১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার ছয় মাস পর শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষা শুরুর কয়েক মাস আগে মুদ্রিত রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হয়। আগামী জুনে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা জানান, প্রথমে ঝালকাঠি এবং পরে অন্য একটি জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্ড বিতরণের সময় ভুলটি ধরা পড়ে। পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৩৮ হাজার ছেলে শিক্ষার্থীর লিঙ্গ ভুলক্রমে মেয়ে বা ফিমেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বরিশাল নগরের তিনটি কলেজের অন্তত সাতজন শিক্ষক বলেন, বাইরে থেকে বিষয়টি ছোট ভুল মনে হলেও এর প্রভাব সামান্য নয়। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দূরবর্তী জেলা ও উপজেলার শিক্ষার্থীদের বোর্ডে আসতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হবে। এত বিপুলসংখ্যক কার্ড পুনর্মুদ্রণের জন্য ঢাকায় যেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে বলেও তারা জানান। বরগুনা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ ইসলাম বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ত্রুটি ধরা পড়ার পর আমরা দ্রুত কলেজে যাই। কলেজ থেকে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কার্ড সংশোধন করে দেওয়া হবে। এখনো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছি না, পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হবে।’ শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, আগে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাপানোর জন্য নিজস্ব প্রিন্টার ছিল। করোনা মহামারির সময় প্রিন্টারের কালি শেষ হয়ে গেলে কম্পিউটার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তা সংগ্রহ না করে গত তিন-চার বছর ধরে ঢাকায় গিয়ে কার্ড মুদ্রণ করিয়ে আনছেন। এতে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য ব্যয়ভার বোর্ডকে বহন করতে হচ্ছে। বরিশাল বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম বলেন, ‘ভুল কার্ড শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোয় তারা মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। নতুন করে কার্ড ছাপাতে যে ব্যয় হবে, তা কোনোভাবেই কলেজের ওপর চাপানো উচিত নয়; বোর্ডকেই এ দায়ভার নিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
Advertisement