ভোলা প্রতিনিধি
ভোলা সদর জজ আদালতের পুলিশ কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন ফকিরের (৪২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শাহাবুদ্দিন ফকির বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে। তিনি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। এরআগে গত মে মাসে এসএসসি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় শাহাবুদ্দিনের একমাত্র মেয়ে তৈয়বা জাহান চৈতি (১৬) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবারের সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না পারার বিষয়টি স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার,২৮ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের অফিসার পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিন আদালতে তার ডিউটি থাকলেও তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। পরে সহকর্মীরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভোলা সদর মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে সামনের কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন বলেন, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন ভাড়া বাসায় পরিবারের নিয়ে থাকতেন। তবে ১০ দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যান। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে ডিউটি ছিল শাহাবুদ্দিনের। সে ডিউটিতে যোগদান না করায় তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু ফোন না ধরায় তার বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকসহ ডাকাডাকি করি। তখনও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিজ্ঞাপন