এম জামান
আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী জোট থেকে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেরিয়ে যাওয়ায় পুরো বরিশালজুড়ে বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় দক্ষিনাঞ্চলজুড়েই বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা আরো বেড়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। এর পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। প্রথমত, ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় জামায়াত ছাড়া বিএনপির সামনে বড় কোনো প্রতিপক্ষ থাকল না। অন্যটি হচ্ছে, এর ফলে নির্বাচনি পরিবেশেও নানাপাক্ষিক হিসাবনিকেশ করতে হবেনা এ দলটিকে। ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে যাওয়ায় বরিশাল সদর আসনে এখন বিএনপি একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে বলে মতামত অনেকের। এ আসনসহ পুরো বরিশালেই ভোটের চালচিত্র পালটে যাবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ায় পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই জামায়াতও কিছুটা স্বস্তিতে। বরিশাল সদর আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন দলটির নায়েবে আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাইর ছোটভাই মুফতি ফয়জুল করিম। জামায়াতের সঙ্গে প্রথম থেকেই ইসলামী আন্দোলনের একটি ঠান্ডা লড়াই চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ গোছানো অনেক আসনেই ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতে ইসলামীর একাধিক দায়ত্বশীল সূত্রের দাবি, বরিশাল সদর আসনে জামায়াত প্রার্থী ভালো অবস্থানে থাকলেও জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তা ছেড়ে দিয়েছে তারা। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল সদর অসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ইতিপূর্বে জোটের স্বার্থেই আমরা সাজানো বাগানও ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ তবে দল যদি তাকে বরিশাল সদর আসনে নির্বাচন করতে বলে, তাহলে তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও জানান হেলাল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত ইসলামীই এক দল আরেক দলের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে। তবে এসব কিছুর মধ্যেই ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়াসহ আলাদা নির্বাচনের ঘোষণায় বিএনপি’র মূল প্রতিপক্ষ এখন জামায়াত বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারনা। তবে অতীত ইতিহাস বলে, বৃহত্তর বরিশালে এমনিতেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে ইসলামী দলগুলোর ভোটের ‘এক বাক্স’ নীতি কিছুুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিলো বিএনপিকে। এখন আর সে অস্বস্তিটুকুও নেই বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, অতীতেও বিএনপি আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের বিপক্ষে নির্বাচন করে বরিশালের অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করেছিলো। বিএনপি একটি জনমানুষের দল, মানুষের রায় নিয়ে এবারও সরকার গঠন করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই প্রতিপক্ষ কে বা কোন জোট তা নিয়ে বিএনপি ভাবছে না।