জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের এক কিশোরীকে নিয়ে স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করা হয়। অভিযোগের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এক মাস দুইদিন কারাভোগ করতে হয়। এ সময় তিনি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন। হারান মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিও।

পরে তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে মোজাফফরের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে কিশোরীর দেওয়া তথ্য ও পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে আসে, শিশুটির জৈবিক পিতা কিশোরীর বড় ভাই মোরশেদ।

পরবর্তীতে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন। ফরেনসিক পরীক্ষায়ও শিশুটির সঙ্গে তার ডিএনএর ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন জানান, অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মোরশেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, গভীর তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়েছে। নিরপরাধ একজন মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে দীর্ঘ কারাভোগ, সামাজিক হেয়প্রতিপন্নতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি বলেন, সত্য প্রকাশ পেলেও আমি অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। ভবিষ্যতে যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ এভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সেটাই চাই।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পেয়েছে। শুরু থেকেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
Advertisement