মাহমুদ ইউসুফ

বায়তুল্লাহ বা আল্লহর ঘর এক অপরূপ বিস্ময়কর সৃষ্টিকর্ম। আল্লহ ও মানুষের মধ্যে এক চিরন্তন স্বর্ণসেতু। খোদার উদ্দেশে বান্দার নিবেদিত একটি নীরব প্রণতি অনন্তকালের জন্য যেন দণ্ডায়মান। পৃথিবীতে যত ঘরবাড়ি ও দামি দামি জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ বা দালানকোঠা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় ঘর হলো বায়তুল্লাহ; যার ভিত্তিপ্রস্তরের আগে পৃথিবীতে আর কোনো ঘর তৈরি হয়নি। তবে জমিনের প্রথম ঘর কোনটি তা নিয়ে বাহাস বর্তমান। তর্ক-বিতর্ক হয়ত চলতেই থাকবে। কারণ পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের অবস্থান সত্যের বিপরীতে। খুব কমসংখ্যক লোকই সুপথপ্রাপ্ত। অধিকাংশ ইনসানই বিপথগামী। আল্লহ আল কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক লোকই কৃতজ্ঞ।’ (সুরা আস-সাবা: আয়াত ১৩) তাদের অধিকাংশের বিবেকবুদ্ধি নাই। (সুরা আনকাবুত: আয়াত ৬৩), তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী। (সুরা আশ-শুয়ারা: আয়াত ২২৩) বরং তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে জানে না। (সুরা আম্বিয়া: আয়াত ২৪) তোমাদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দ কর। (সুরা আয-যুখরুফ: আয়াত ৭৮) এরূপ অর্ধশতাধিক আয়াতের বিষয়বস্তু হলো মানবগোষ্ঠীর অধিকাংশ ভ্রান্ত আকিদায় বিভ্রান্ত। সামান্য সংখ্যক আলোকপ্রাপ্ত। আর কুপথপ্রাপ্ত তথা বিপথগামীদের কাছ থেকে সহিহ কিছু প্রত্যাশা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে আমরা সত্যটা তুলে ধরার কোশেশ করব। 

ভৌগোলিক দিক দিয়ে মাক্কা ও আরব উপদ্বীপ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। মাক্কানগরী বৃত্তের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় মহান আল্লহ কাবাঘর এখানেই কায়েম করেন। কাবা পৃথিবীর নাভীমূল বলে কথিত। পৃথিবী সৃষ্টির ২ হাজার বছর পূর্বে বিশ্বসমুদ্রে কাবা উপাসনালয়ের স্থানটি একটি পিণ্ডের আকারে অবস্থান করতেছিল। পৃথিবী সৃষ্টির সময় পিণ্ডটিকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্ধারিত করে পৃথিবীকে বিস্তৃত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে পৃথিবীর সারভাগ, পরে জান্নাত ও সর্বশেষে পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়। কুরআনে মাক্কাকে উম্মুল কুর বা নগরসমূহের মাতা বলা হয়েছে।লোকসাহিত্যেও একে পৃথিবীর নাভি বলা হয়। আল কুরআনে মাক্কা সম্পর্কে আল্লহ বলেন, ‘এবং হে নবি! এরূপেই এই আরবি কুরআনকে আমরা তোমার প্রতি অহি করেছি। যেন তুমি সব জনপদের কেন্দ্রস্থল (মাক্কা নগর) এবং তার আশে-পাশের বসবাসকারীদের সাবধান করে দাও এবং একত্রিত হবার দিন সম্পর্কে ভয় দেখাও-যার আগমনে কোনোই সন্দেহ নেই। একদলকে জান্নাতে যেতে হবে আর অপরদলকে জাহান্নামে।’ (সুরা আশ-শুরা ৪২: আয়াত ৭) সম্পূরক কিছু বর্ণনাও এর সাথে সংযোজন করা অযৌক্তিক হবে না।

পূর্বেই বলা হয়েছে আদম ও বিবি হাওয়া বেহেশত হতে দুনিয়ায় নির্বাসিত হবার পর অনেক সাধনার পর আরবদেশে উভয়ের মিলন ঘটে। মাক্কায় স্থিত হলে আদম কৃতজ্ঞতা ভরে আল্লহর নিকট প্রার্থনা করেন: ‘‘হে আল্লহ, বেহেশতে অবস্থানকালে ‘বায়তুল মামুর’ নামক যে জ্যোতির্ময় মসজিদে ফেরেশতাদের সাথে আমি নিত্য তোমার ইবাদত করতাম। সেরূপ একটি মসজিদ তুমি আমাকে দাও- যাতে দুনিয়াতেও আমরা তোমার গুণগান করতে পারি।’’ আদমের এই প্রার্থনা আল্লহ কবুল করেন। তখন ফেরেশতাগণ বায়তুল-মামুরের একটি প্রতিকৃতি (tabernacle) দুনিয়ায় নামিয়ে আনেন। আদম সন্তুষ্টচিত্তে সেখানে ইবাদত করতে থাকেন। একটি ঝর্ণাধারাও সেখানে প্রবাহিত হয়। ইহাই সেই পবিত্র ‘জমজম’। প্রসঙ্গে আবুল কাসিম মুহাম্মদ আদমুদ্দীন লিখেছেন: ‘‘হযরত আদম আ. পৃথিবীতে এসে একটি ইবাদতের স্থান নির্দিষ্ট করেন। ইহাই আদি কাবা; পৃথিবীর প্রথম উপাসনালয়। পরবর্তীকালে এই স্থানে একটি গৃহ নির্মিত হয়। নুহ আ. এর সময় তুফান প্লাবনে এই গৃহ বিনষ্ট হয়। তারপর ইসা আ. এর জন্মের ২ হাজার বছর পূর্বে ইবরহিম আ. তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র ইসমাইল আ. সহযোগে বর্তমান হাতিম নামক স্থান অন্তর্ভুক্ত করে কাবাগৃহ পুনঃনির্মাণ করেন।’’ কাবা শরিফের প্রথম নির্মাণকাল সম্ভবত ইসায়িপূর্ব ৭০০০ অব্দ। 

২.

পৃথিবীতে অক্ষত একমাত্র অহির কিতাব আল কুরআনেও কাবাঘর সর্বাপেক্ষা সনাতন স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। আল্লহ তায়ালা বলতেছেন: ‘‘এবং আমি ইবরহিম ও ইসমাইলকে আদেশ দিলাম: আমার গৃহকে পবিত্র কর।’’ কোনো গৃহের অস্তিত্ব পূর্ব হইতে বিদ্যমান না থাকিলে তা পবিত্র করবার কথা আসতে পারে না। বিশেষ করে ইবরহিম ও ইসমাইলের হাতে যে ঘর নির্মিত হলো, তা যে অপবিত্র ছিলো, এ কথারও কোনো মানে হয় না। কাজেই এখানে যে ইবরহিমের পূর্ববর্তী অবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তা একরূপ স্বতঃসিদ্ধ। ইবরহিম কর্তৃক কাবাগৃহের নির্মাণ প্রসঙ্গেও আল কুরআনে যে আয়াত আছে, তাও এই কথারই সমর্থন করে: ‘‘এবং যখন ইবরহিম ও ইসমাইল কাবাগৃহের ভিত উঁচু করতেছিলেন, তখন তিনি প্রার্থনা করলেন: ‘হে আমার প্রভু, আমার এই সুকাজ কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি শ্রোতা এবং সর্বজ্ঞ’।’’ এখানে অধিকাংশ তাফসিরবিজ্ঞানীই ভিত উঁচু করবার অর্থ পুনঃনির্মাণ (rebuild) বলে নির্ধারণ করিয়াছেন। শুধু এটাই নয়, কুরআনের অন্যান্য স্থানেও আল্লহ এই কাবাগৃহকে দুনিয়ার ‘প্রথম গৃহ’ (the first house) বা ‘সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গৃহ’ (the ancient house) বলে উল্লেখ করেছেন। যথা: ‘নিশ্চয়ই মানুষের জন্য প্রথম- সুরক্ষিত গৃহ বাক্কার গৃহ (অর্থাৎ কাবা) যা আশীর্বাদপ্রাপ্ত এবং জাতিসমূহের পথপ্রদর্শক।’ ইহা দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, এই কাবাগৃহই বিশ্বের সর্বপ্রথম গৃহ; এর পূর্বে দুনিয়ায় আর কোনো গৃহ নির্মিত হয় নাই। আদি মানব আদমের সমসাময়িক না হলে কিছুতেই একে ‘মানুষের জন্য প্রথম স্থাপিত গৃহ’ বলা যেত না।

রসুলুল্লাহর সুন্নাহ থেকেও উহা সুপ্রমাণিত। আল্লহর রসুল স. বলেছেন: ‘‘বিশ্বের সর্বপ্রথম মাসজিদ হলো মাসজিদে হারাম। এর পরের মাসজিদ হলো মাসজিদে আকসা।’’ বর্ণিত আছে, আদম আ. পাঁচটি পাহাড়ের পাথর দিয়ে কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেন। জাবালে  হেরা, জুদি, লুবনান, সিনাই ও জাইতুন। ফেরেশতারা এ পাথরগুলো সঞ্চয়-সংগ্রহ করে  দেয়। এক হাদিসে রসুল স. বলেন: ‘‘আদম আ. ও বিবি হাওয়ার পৃথিবীতে আগমনের পর আল্লহ পাক জিবরাইলের মাধ্যমে তাদের কাবাগৃহ নির্মাণের আদেশ দেন। এ গৃহ নির্মিত হয়ে গেলে তাদের তাওয়াফ করার হুকুম দেওয়া হয় এবং বলা হয় আপনি সর্বপ্রথম মানব এবং এ গৃহ সর্বপ্রথম গৃহ, যা মানবমণ্ডলীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।’’

বিভিন্ন তাফসিরবিদদের মতে, মানব সৃষ্টির বহু আগে মহান আল্লহ কাবাঘর সৃষ্টি করেন। তাফসিরবিজ্ঞানী মুজাহিদ বলেন: ‘আল্লহ রব্বুল আলামিন বাইতুল্লাহর স্থানকে সমগ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার বছর আগে সৃষ্টি করেন।’ আদম কাবাঘর আল্লহর আদেশে পুনঃনির্মাণ করেন। এরপর বহুদিন অতিক্রম হলো। শত শত বছর অতিবাহিত হলো। আল্লহর বান্দারা কাবাঘর জিয়ারত করত, আল্লহর কাছে হাজিরা দিত এ কাবাঘরে সমবেত হয়ে। কাবাঘরে এসে মহান আল্লহর পবিত্রতা ও অংশীদারহীনতা ঘোষণা দিত। ‘লাব্বাইক আল্লহুম্মা, লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়ামাতা, লাকাওয়াল মুলক, লাশারিকা, লাকা লাববাইক।' এভাবে চলতে চলতে দিন গত হতে থাকলো। এরপর আদমের ইন্তেকালের পর তাঁর এক বংশধর শিছ আ. কাবাগৃহ নির্মাণ করেন। বিভিন্ন সূত্রের বিবরণীতে কিছু ভিন্নতা থাকলেও মূলবিষয় কিন্তু একটাই। 

৩.

প্রাচ্য-প্রতীচ্যের আধুনিক জ্ঞানী-গুণীদের চিন্তা-চেতনায়ও বিষয়টির অবতারণা ঘটেছে। ইউরোপীয় পণ্ডিত Nicholson তাঁর Literary History of the Arabs গ্রন্থে বলেন: ÔÔLigend attributes its foundation to Adam who build it by Divine Command after acelestial archetype. At the Deluge it was taken up into heaven, but was rebuilt in its former site by Abraham and Ismail.’’ তরজমা: ধর্মপ্রবাদ এরূপ যে, আদম বেহেশত হতে প্রেরিত একটি প্রতিকৃতির অনুকরণে কাবাগৃহ নির্মাণ করেন। কিন্তু নুহের তুফানের সময় ফেরেশতারা সেটা আসমানে তুলে নেয়, পরে ইবরহিম ও ইসমাইলের দ্বারা ইহা পূর্ব ভিত্তির উপরে পুননির্মিত হয়। 

Sir William  Muir মনে করেন: A very hight antiquity must be assigned of Mecca Although Herodotus does not refer to the Kaba, yet the names as one of the Chief Arab divinities of the worship at the early period of Al-Lat, the great idol of Mecca. He like wise alludes of the veneration of the Arabs for stones. Diodorus Siculus. Writing about half a century before our era, says of Arabia Washed by the Red Sea: there is in this country a temple greatly revered by Arabs. These words must refer to the holy house of Mecca, for we know of no other which ever commanded suck universal homage. Early Historical Tradition gives no trace of its first construction. Some authorised assert that the Amelikites rebuilt the edifice which they found and retained it for a time under their charge. All agree it was in existance under the Jurham (about the time of the christian era) and being injured by a flood of rain was then repaired. Tradition represents the Scence of Pilgrimage from all quarters of Arabia. তরজমা: অর্থাৎ মাক্কার ধর্মানুষ্ঠান যে অতি প্রাচীন, সে কথা অনস্বীকার্য। যদিও হিরোডাটাসের বিবরণে কাবার উল্লেখ নেই; তবু তিনি আরবদের অন্যতম প্রধান দেবতা ‘আলিলাতের’ উল্লেখ করেছেন। ইহা প্রকৃতপক্ষে আরবদের প্রধান দেবতা। ‘আল-লাতের’ নামান্তর। তিনি আরবদের প্রস্তর প্রীতির কথাও উল্লেখ করেছেন। ডিওডোরাস সিকাউলাস খ্রিস্টপূর্ব অর্ধশতাব্দী পূর্বে লিখে গেছেন: আরব দেশ লৌহিত সাগরের তীরে অবস্থিত। এদেশে একটি বিখ্যাত ধর্মমন্দির আছে। আরবেরা তাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করে। ইহা নিশ্চয়ই মাক্কার কাবা শরিফের প্রতি ইঙ্গিত। এই মন্দির ছাড়া সে যুগে জগতের অন্য কোথাও কোনো সুবিখ্যাত ধর্মমন্দির ছিলো বলে জানা যায় না। প্রাচীন ঐতিহাসিকের কোনো বিবরণীতেও এর প্রথম নির্মাণকাল সম্বন্ধে জানা যায় না, কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন: এমেলিকাইটগণ এই মন্দির পুনঃনির্মাণ করেছিল এবং কিছুকাল যাবৎ ইহা তাদের অধীন ছিলো। এ বিষয়ে সবাই একমত যে, খ্রিস্টের জন্মসময়ে এ মন্দির জুরহাম গোত্রের অধীনে ছিলো এবং প্রবল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দরুণ তারা এটার সংস্কার সাধন করেছিল। বস্তুত স্মরণাতীতকাল হতে এ মন্দির আরব জাতির ভজনালয়রূপে গণ্য হয়ে আসছে।’ একজন ভারতীয় মনীষী লিখেছেন, ‘কাবা সম্পর্কে বিবলিওথেকা হিস্টোরিকায় উল্লেখ করছেন গ্রিক ঐতিহাসিক দিয়োদরুস সিকুলুস (খ্রিস্টপূর্ব ১০০ অব্দ) এবং টলেমি তাঁর ভূগোলে (৯০-১৬৮ খ্রিস্টাব্দ)।’

৪.

মাসজিদুল হারাম শরিফের অস্তিত্ব অতিপ্রাচীনকাল থেকে বিদ্যমান। শুধু তাই নয় দুনিয়ার শেষ তারিখ পর্যন্ত ইহা টিকে থাকবে। মাওলানা মুহাম্মাদ আলি এ সম্বন্ধে বলেছেন: If on the hand, Mecca is declared to be the first house raised on the earth for the worship of the divine being, it is on the other announced to be Mubarak which word, though ordinarily rendered as blessed, signifies the continuance for ever of the blessings which a thing possesses and thus it is the first as well as the last house in which the nations of the world have found, and guydance. (The Quran: 171) তরজমা: একদিক যেমন মাক্কার কাবাকে আল্লহর উপাসনার জন্য জগতের সর্বপ্রথম গৃহ বলা হয়েছে, অন্যদিকে একে ‘মুবারক’ বলেও অভিহিত করা হয়েছে। মুবারক শব্দের সাধারণ অর্থ ‘অনুগ্রহ প্রাপ্ত’ কিন্তু এর গূঢ় অর্থ চিরদিনের জন্য ধারাবাহিকভাবে আল্লহর সর্বপ্রথম এবং সর্বশেষ গৃহ; এখানেই বিশ্বের সকল জাতি যুগে যুগে সত্যিকার প্রেরণা এবং পথের দিশা পেয়ে আসছে এবং পাবে। 

বায়তুল্লাহকে মুদ্রামানে মূল্যায়ন করা অনুচিত। উহা সম্ভবও নয়। তারপরও ব্রিটেনের নামজাদা আবাসন কোম্পানি ‘হোমস অ্যান্ড প্রোপার্টি’ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ১০টি ভবনের তালিকা প্রস্তুত করেছে। কোম্পানির তথ্য মতে, মাসজিদ আল-হারামই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ও দামি স্থাপনা। আমাদের কাছে মজুত উপরিল্লিখিত তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণাদি, দলিল-দস্তাবেজ থেকে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব যে, বায়তুল্লাহই পৃথিবী নামক ভূখণ্ডের প্রথম স্থাপত্যশিল্প।

৫. 

বায়তুল্লাহর সার্বজনীনতা সাম্প্রতিককালে আরও বেশি গুরুত্ববহ হয়ে ওঠছে। ‘মহাকাশ  থেকে কাবার দৃশ্য দেখে সবাই স্তব্ধ’ শিরোনামের একটি খবর: নাসার অভিজ্ঞ নভোচারী ডন পেটিট মহাকাশের কক্ষপথ থেকে তোলা এক মনোমুগ্ধকর ছবি প্রকাশ করার পর তা ইন্টারনেটজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।  ডিসেম্বর তাঁর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা ওই ছবিতে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীকে রাতের অন্ধকার ভেদ করে আলোকিত অবস্থায় দেখা যায়। শহরের কেন্দ্রস্থলে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম স্থান-কাবা শরিফ। দক্ষ অ্যাস্ট্রো-ফটোগ্রাফার ও রসায়ন প্রকৌশলী পেটিট ছবিটির ক্যাপশনে লেখেন, “মহাকাশের কক্ষপথ থেকে তোলা সৌদি আরবের মক্কা। মাঝের উজ্জ্বল ছোট্ট আলোকবিন্দুটি হলো কাবা শরিফ-ইসলাম ধর্মে সর্বাপেক্ষা পবিত্র স্থান, যা মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান।”

ছবিটিতে পাহাড়ি উপত্যকার মধ্যে বিস্তৃৃত মক্কা নগরী স্পষ্ট দেখা যায়। গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এলাকা অসংখ্য LED এবং সোডিয়াম লাইটে আলোকিত হওয়ায় পুরো নগরী রাতের বেলায় বিশেষভাবে জ্বলে ওঠে। সেই আলোর উৎসের কেন্দ্রেই অবস্থিত কাবা, যা ছবিতে উজ্জ্বল সাদা বিন্দুর মতো প্রতিফলিত হয়েছে। দর্শকরা এই অনন্য আলোকদৃশ্য দেখে অভিভূত। মহাকাশ থেকে দেখা কাবার আলো একেবারেই আলাদা। মনে হয় যেন পৃথিবীর হৃদয়ের গভীর থেকে কোনো দিব্য আলো ছড়িয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement