কীর্তনখোলা রিপোর্ট

রমজান শুরু হলেও বরিশালে ভোজ্যতেল ছাড়া অন্য প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম দু বছর আগের তুলনায় যথেষ্ঠ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ছোলাবুট, চিনি, খেশারী ডাল’র দাম এবার বাড়েনি। তবে পেয়াঁজ এখনো খুচরা পর্যায়ে ৬০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। ডিম-এর দামও এক বছর আগের ৫২ টাকা থেকে এখন ৩৬-৩৮ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। এবার চিনির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বনিম্নে, ৯৫ টাকা থেকে ১শ টাকা কেজিতে বিক্রী হচ্ছে। এমনকি এবার ছোলা ডালের দামও গত কয়েক বছরের তুলনায় কম রয়েছে। ভালমানের ছোলা ডাল এবার ৯০-৯৫ টাকা। যা দু বছর আগে ১৪০ থেকে দেড়শ টাকায়ও বিক্রী হয়েছে। এমনকি এবার খেশারী ডালের দামও গত কয়েক বছরের তুলনায় কম। ১শ টাকা কেজিতে বিক্রী হচ্ছে। যা গত বছরও ১২০-১৩০টাকা কেজিতে বিক্রী হয়েছে। রমজানের অন্যতম প্রধান অনুসঙ্গ খেজুরের দামও কিছুটা কম রয়েছে। মধ্যম-ভাল মানের খেজুর এবার কেজি ৫শ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে ভোজ্যতেল এখনো সারা দেশের মত বরিশালের মানুষকেও কষ্ট দিচ্ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। কোন কোন স্থানে তা ২শ টাকা লিটারেও বিক্রী হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বানিজ্য সংস্থা-টিসিবি এবারো রমজানের আগের দিন থেকে বরিশাল অঞ্চলে প্রতিদিন ৪০টি ট্রাকে ১৬ হাজার মানুষের মাঝে ১১৫ টাকা দরে ২ লিটার করে ভোজ্য তেল বিক্রী করছে। পাশাপাশি ৮০ টাকা দরে ১ কেজি চিনি, ১৬০ টাকা দরে ৫শ গ্রাম খেজুর ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি করে মুসুর ডালও বিক্রী করছে। ৭০ টাকা দরে ১ কেজি ছোলা বুট’ও পাচ্ছেন ভোক্তাগন। এর বাইরে আরো প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজর ফেমিলি কার্ডধারীও প্রতিমাসে ৩০ টাকা কেজি দরে ৫ কেজি চাল ছাড়াও ১০৫ টাকা লিটারে ২ লিটার সয়াবিন বা রাইস ব্রান অয়েল, ৭০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি চিনি, ১৬০টায় ১ কেজি খেজুর ও ৬০ টাকায় ১ কেজি ছোলা বুট পাবেন কার্ডধারীগন। চলতি মাসে মধ্যেই এসব পণ্য কার্ডধারীদের মাঝে বিতরন করা হবে বলে বরিশালে টিসিবি’র ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ঈদের আগে পর্যন্ত প্রতিদিন ৪০টি ট্রাকে ১৬ হাজার করে মানুষের মাঝে এসব পণ্য বিক্রী ছাড়াও মার্চ মাসেও ফেমেলি কার্ডধারীগন আরো একবার চাল ও ভোজ্যতেল সহ নির্ধারিত নিত্যপণ্য সুমহ পাবেন বলে জানা গেছে। চাহিদার তুলনায় কম হলেও টিসিবি’র এ কার্যক্রম নিত্যপণ্যের বাজারের ঊর্ধ্বমুখি প্রবনতাকে আটকাতে সক্ষম হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকগন। পাশপাশি খাদ্য বিভাগ থেকেও বরিশাল অঞ্চলে খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ৯২ টন চাল ও ২৪ টাকা দরে ৫৬ টন আটা বিক্রী করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ চাল ও সাড়ে ১১ হাজার জন আটা পচ্ছেন। ফলে এবারের রমজানে বরিশালের চালের বাজারের ঊর্ধ্বমুখি প্রবনতাও কিছুটা নিম্নমুখি রয়েছে। তবে এসব কিছুর মধ্যেও অতীত প্রথা অনুযায়ী রমজানের শুরুতে বেগুন,শশা, লেবু আর কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। বরিশালের বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে বেগুন ও শশা বিক্রী হচ্ছে। মাঝারী সাইজের লেবু বিক্রী হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা হালি। আর কাঁচা মরিচের কেজি এখন দেড়শ টাকার ওপরে। পাইকারী আড়তদারদের মতে, নির্বাচনের জন্য বেশ কয়েকদিন ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকয় পণ্যের চালান সিমিত থাকার পাশাপাশি রোজাকে পুজি করেও উৎপাদক পর্যায়েই দাম বেড়েছ। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও আশা করছেন আড়তদারগন। তবে এসব পণ্য সহ বরিশালের সবজির বাজারেও আড়ত ও খোলাবাজারে পণ্যমূল্য এখনো আকাশ-পাতাল তফাত। রোজাকে কেন্দ্র করে মাছের বাজারও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখি। গরুর গোসতের দাম নতুনকরে না বাড়লেও কেজি সাড়ে ৭শ টাকার ওপরে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা। সোনালী ২৮০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement