কীর্তনখোলা ডেস্ক
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে আজ দুই অর্ধে ভিন্ন দুই চেহারার বাংলাদেশকে দেখা গেছে। প্রথমার্ধে ভারতের রক্ষণভাগে ধারাবাহিক আক্রমণ চালালেও দ্বিতীয়ার্ধে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। পিছিয়ে পড়ার পরও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাটাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায়। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। দুটি গোলই এসেছে প্রথমার্ধে। সপ্তদশ মিনিটে বিশাল যাদবের গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ, তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আব্দুল রিয়াদ ফাহিম সমতা ফিরিয়ে আনেন। ভারতের বিপক্ষে এই ড্রয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। দুই দলেরই সমান ৪ পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে উঠে যায় ভারত। ফলে প্রথম সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের দল। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ভুটান। নকআউট পর্বের দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ এপ্রিল। ম্যাচের শুরু থেকেই লড়াই জমে ওঠে। বাংলাদেশের আক্রমণে চাপে পড়ে ভারতের রক্ষণভাগ। দ্বাদশ মিনিটে কর্নার থেকে আশিকুর রহমানের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। খেলার প্রবাহের বিপরীতে সপ্তদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। কর্নার থেকে হেডে গোল করেন বিশাল যাদব। যোগ করা সময়ে ক্রস থেকে জদ্রিক আব্রামচান্সের প্লেসিং লক্ষ্যে না থাকায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ভারত। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করায় যোগ করা সময়ের শুরুতে ভারতের গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দী লালকার্ড দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরই সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। রোনান সুলিভানের কর্নার থেকে দূরের পোস্টে থাকা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান। বিরতির পর ভারতের আক্রমণে চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৬৩তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পায় ভারত, তবে গোলকিপার মাহিন দলকে রক্ষা করেন। বদলি ডিফেন্ডার আব্দুল রিয়াদ ফাহিমের ভুলে বল পেয়ে ওমাং দোদুম বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি বক্সে ঢুকলেও শট নেওয়ার আগেই এগিয়ে এসে তাকে থামিয়ে দেন মাহিন। ৮১তম মিনিটে বক্সে থাকা নাজমুল ফয়সালকে চমৎকার পাস দেন সানি দাস। তবে সুযোগ পেয়েও বল নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন তিনি। ৮৭তম মিনিটে রোনানের শট পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। ৯০তম মিনিটে আবারও বিপদের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে রিসি সিং পাস দেন ওমাং দোদুমকে। তাকে ঠেকাতে গিয়ে পড়ে যান ডিফেন্ডার মিঠু। সামনে তখন শুধু গোলকিপার মাহিন থাকলেও শট নিতে দেরি করায় সুযোগ নষ্ট করেন ভারতীয় ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এখন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ বিভাগে মোট সাতবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ভারত চারবার, নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশ একবার শিরোপা জিতেছে। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।