কীর্তনখোলা ডেস্ক

চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে সাকিব আল হাসানুএর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নাটকীয় ঘটনার ভেতর দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের; জাতীয় দলের জার্সিতেও আর দেখা যায়নি তাঁকে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সাকিবের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েক দিন আগে সাকিবকে ঘিরে সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছাতেই সেই আলোচনায় নতুন গতি এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান নতুন তথ্য সামনে আনে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সাকিবকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি সাকিব, তবে সম্ভাবনাকে একেবারে নাকচও করেননি। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডেইলি সানকে সাকিব বলেন, ‘আপনারা অনেক দূর চিন্তা করে ফেলেছেন। ভাই, সামনে কী হয়, দেখা যাক।’ সাকিবের ফেরা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত কোথায়— এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে গত বছরের জুলাইয়ে ডেইলি সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের কথা সামনে আসে। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘সেটা (সাকিবের খেলতে পারার বিষয়টি) নির্ভর করবে তাঁর ফর্মের ওপর। তখন তিনি ক্রিকেটে থাকবেন কি না, সেটাও বিবেচ্য। আমি কখনো খেলাধুলায় রাজনীতি টানতে চাইনি এবং তা বিশ্বাসও করি না। ফলে যোগ্যতা থাকলে সে অবশ্যই খেলবে।’ একই সময়ে তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকেন বা কোনো ফৌজদারি মামলায় জড়িত হন, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু কেবল রাজনৈতিক কারণে কাউকে খেলতে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।’ শুধু বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যই নয়, কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকেও জানানো হয়েছে, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে নির্ধারিত সিরিজেই সাকিবকে ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বোর্ড। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচও সে সময় মন্তব্য করেন, ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার পরিকল্পনা সাকিবের ভাবা উচিত। মির্জা ফখরুলের আগের বক্তব্য, বিসিবির সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয়— সব মিলিয়ে সাকিবের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জাতীয় দলের হয়ে সাকিব সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে, কানপুরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। একই বছরের জুনে খেলেছেন শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। আর ওয়ানডেতে তাঁর শেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। তবে জাতীয় দলে ফিরলে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণ থেকে অবসর নিয়ে কেবল ওয়ানডে খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে— এমনটাই ডেইলি সানকে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র। একই সূত্র আরও জানায়, চলতি মাসের শেষ ভাগে দেশে ফিরে প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন সাকিব। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘তিনি দেশে ফিরে পাকিস্তান সিরিজে খেলবেন। পাশাপাশি আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ তাঁর লক্ষ্য থাকবে। ফিরে এসে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়িয়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানাই তাঁর মূল পরিকল্পনা।’ দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সক্রিয় রয়েছেন সাকিব। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বোলিংয়ে তিনি ভালো অবস্থায় থাকলেও চোখের সমস্যার কারণে ব্যাটিংয়ে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সূত্রটি জানায়, ‘তিনি মূলত সংক্ষিপ্ত সংস্করণে খেলছেন। বোলিংয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, তবে ব্যাটিংয়ে দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকা প্রয়োজন। ওয়ানডে কিংবা টেস্ট ক্রিকেট সেই ছন্দ ফিরে পেতে সহায়ক হতে পারে।’ চোখের সমস্যার বিষয়ে সূত্রটি আরও উল্লেখ করে, ‘এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ ও স্বস্তিতে আছেন। দীর্ঘদিন যে চোখের জটিলতায় ভুগছিলেন, তার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ফলে বল দেখার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন— যা এই মানের একজন ব্যাটসম্যানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বিজ্ঞাপন
Advertisement