কীর্তনখোলা ডেস্ক

আজ ১৯ জানুয়ারি। স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন দম্পতির পাঁচ পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর ডাকনাম ছিল কমল। শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের ওপর হামলা চালালে মেজর জিয়া চট্টগ্রামে তাঁর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে আটক করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরদিন ২৬ মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণ আরও বেগবান হয়। সেদিন থেকেই জাতি তাঁর সাহসী নেতৃত্বের পরিচয় লাভ করে। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে সংঘটিত সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। সামরিক জীবন থেকে উঠে এলেও দেশের প্রতিটি সংকটে তিনি নিজেকে একজন কার্যকর নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। তাঁর শাসনামলে উৎপাদনমুখী রাজনীতির ধারণা প্রবর্তিত হয়। কৃষি উন্নয়ন, গণশিক্ষা বিস্তার, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তায় প্রায় এক হাজার চারশ খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গণশিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই লাখো নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম সরকার ও প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তিনি নিহত হন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি—প্রতিষ্ঠা করেন এবং দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর গড়া এই দল পরবর্তী সময়ে একাধিকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। জিয়ার মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ধরে দলের নেতৃত্বে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেবেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতিহা পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (আইডিইবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই সঙ্গে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) মেডিকেল ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি পালন করবে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement