​ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি 

পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের ‘মোসলেম মাটিভাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি, শিক্ষক নিয়োগ ও চাকরি বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

এমনকি এই বিশাল অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভান্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের নাম জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

​অবৈধ চুক্তি ও এমপিওভুক্তি: ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোসলেম মাটিভাংগা বিদ্যালয়টি পূর্বে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। পরবর্তীতে এটিকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা এবং এমপিওভুক্ত (Monthly Pay Order) করার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করান।

​আরও অভিযোগ উঠেছে যে, এনটিআরসিএ (NTRCA) এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন সহকারী শিক্ষিকার বেতন ছাড় করানোর ক্ষেত্রেও লোক মারফত বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ওই তিন শিক্ষিকার নথিপত্রে বিভিন্ন রকমের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নিয়মনীতি অমান্য করে টাকার বিনিময়ে তাদের বেতন করানোর ব্যবস্থা করা হয়।

​অন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ‘দালালি’ নিয়ে প্রশ্ন: ​এই পুরো অবৈধ আর্থিক লেনদেনের চুক্তি ও মধ্যস্থতা করার পেছনে ‘ভান্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়েও কীভাবে তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের দালাল হিসেবে কাজ করলেন এবং কয়েক লক্ষ  টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হলেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ: ​প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু এমপিওভুক্তিই নয়, বরং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের নামেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে তিনি লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কাউকে চাকরি দিতে পারেননি এবং ভুক্তভোগীদের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

​ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ: ​একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে নীতি-নৈতিকতা শেখানোর জায়গা, সেখানে খোদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন দালাল চক্রের মাধ্যমে এমপিওভুক্তি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অত্র অঞ্চলের সাধারণ জনগণ। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এভাবে দালালের মাধ্যমে এবং অনৈতিক উপায়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান কতটুকু বজায় থাকবে?

​এই পরিস্থিতিতে ভান্ডারিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা পিরোজপুর জেলা প্রশাসন, ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একটি নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা সকল দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে বের করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন
Advertisement