নেছারাবাদে ২ প্রবীণ শিক্ষকের সঙ্গে ইউএনও’র অসদাচরণ! ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্রসমাজ
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্তের বিরুদ্ধে উপজেলার দুই প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে চরম অসদাচরণ ও অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষা মহলে তীব্র অসন্তোষ ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন স্বরূপকাঠি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিয়মিত গভর্নিং বোর্ডের এক সভা ইউএনও’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজারো ছাত্র-ছাত্রী গড়ার কারিগর, সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজের সাবেক প্রবীণ অধ্যাপক ফজলুল হক এবং সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বাহাদুর।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সভা চলাকালীন বিবিধ আলোচনা পর্বে প্রবীণ অধ্যাপক ফজলুল হক স্যারকে ইউএনও’র সঙ্গে বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বাহাদুর তাকে ইউএনও’র পাশের একটি শূন্য চেয়ারে বসার আহ্বান জানান। অধ্যাপক ফজলুল হক আসনটির দিকে এগিয়ে গেলে পরিচয় পর্ব বা সৌজন্যতা দেখানো তো দূরের কথা, ইউএনও অমিত দত্ত তাকে পাশের চেয়ারে বসতেই দেননি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উল্টো পাশে থাকা সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বাহাদুরকে চরম ধমক দিয়ে ইউএনও বলেন, “তিনি কেন এখানে বসবেন?”
একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আকস্মিক ও অবমাননাকর আচরণে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে পড়েন। ঘটনার পর গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বাহাদুর জানান, "জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সঙ্গে বর্তমান ইউএনও যে আচরণ করেছেন, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বর্তমান ইউএনও অমিত দত্তের কার্যালয়ে আর যাব না।"
এদিকে আরও জানা গেছে, স্বরূপকাঠি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার ও নেতিবাচক আচরণ করেছেন এই কর্মকর্তা।
দুই প্রবীণ শিক্ষাগুরুর এই চরম লাঞ্ছনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় সচেতন মহলে ইউএনও’র এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানানো হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, একজন শিক্ষকের সম্মান সবার ওপরে। যিনি হাজারো মেধা তৈরি করেছেন, তাকে এভাবে অপমান করা মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে অহংকারী ও বিতর্কিত এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্তকে নেছারাবাদ থেকে অপসারণ করা না হলে, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশাল মানববন্ধন ও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।